Monday, June 1, 2020

পয়েন্ট অব হতাশা


কলেজ ক্যাম্পাসে তারা কজন
মেতেছে আড্ডায়
সেই জায়গায়
যা নবিনের ভাষায় পয়েন্ট অব মোহনা।

বিশাল দিঘির পাড়, গাছের ছায়ায়
আদ্দাটা প্রতিদিনি ব
হাসি খুশি আর খুন্সুটিতে
সময় বয়ে জায়।

এমনি করে চলে জায় ঘন্টা
দিন সপ্তাহ মাস বছর
তারি মাঝে কারো মনে
গড়ে তুলে স্বপ্ন রাংা ঘর।

চোখের চাহনি আর সুপ্ত ইশারায়
একে অপরকে তারা
আপন করে নেয়
প্রেমের মালা দ্বারা।
ভালোই যাচ্ছিল আদ্দা আর
প্রেম ভালোবাসার গল্প
হট্হাত নেমে আসে অশনি সন্
যেনসুখ্টা অতি অল্প।

সকল স্বপ্ন আধারে লুকিয়ে
দুজনে হয় ছিন্ন
সুখের মিলন ঘটার আগেই
পথ হয়ে জায়দুটি ভিন্ন।

নবিনের কাছে যে পয়েন্ট
উচ্চসিত আশা ভালোবাসা
প্রবীনরা দাড়িয়ে ভাব
দিস ইজ দা পয়েন্ট অব হতাশা।

সতর্কতাঃ সেই সকল নবীন ছাত্র ছাত্রী ভাই বোনদের, যারা কলেজ কেম্পাসে উঠেই নিজেদ্রকে প্রেম ভালোবাসার খেলায় 
মত্ত করে তলেন তাদের জন্য। কেননা তমাদের ছোট্ট একটি ভুল সারা জিবনের জন্য অশান্তি বয়ে আনতে

শামসুদ্দীনে করোনা টেস্টের গড়িমসিতে প্রাণ হারালেন সিএইচসিপি এর সভাপতি আকরাম চৌধুরীর বড় ভাই



আমরা ৩ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই লাখড়ী পাড়া, শিবগঞ্জ সিলেট নিবাসী
#জনাব_মাহমুদুল_হক_চৌধুরী (মামুন কন্ট্রাক্টর) গত ২৮ মে বৃহস্পতিবার শহীদ শামস উদ্দিন হাসপাতালে রাত ৩.২০ মিনিটের সময় ইন্তেকাল করেছেন।

#প্রসঙ্গত ঈদুল ফিতরের রাত বড় ভাইয়ের দীর্ঘ মেয়াদি ডায়েবিটিস উচ্চ রক্তচাপ রোগ থাকায়, ডায়াবেটিস নিল হয়ে যায় যার ফলে তিনি কোমায় চলে যান, এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। উচ্চতর চিকিৎসার জন্য সিলেটের ২/৩ টি নামি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তিনারা ভর্তির ব্যাপারে ওসমানী এবং শহীদ শামস উদ্দিন সাজেস্ট করেন। পরবর্তীতে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ হয়। ইবনে সিনায় বুকের এক্সরে পরীক্ষা দিলে দেখা যায় টিউবারকিউলোসিস এবং লাঞ্চ সেডো হয়ে গেছে। শ্বাসকষ্ট একটু বেড়ে গেলে আইসি ইউ প্রয়োজনবোধ হলে কর্তৃপক্ষ আইসিইউ তে এডমিট না করে ওসমানীতে COVID-19 সাসপেক্টেড হিসেবে ছাড়পত্র দেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরের দিন অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক COVID -19 সাসপেক্টেড হিসেবে শামস উদ্দিন হাসপাতালে রেফার করেন, আন্তরিকতার সহিত সহযোগিতা করেন ভাগিনা ডাঃ জিমি চৌধুরী  এবং ডাঃ মুকুল অসংখ্য ধন্যবাদ উনাদের। মধ্যেখানে ২দিন প্রায় অনাহারে এবং সঠিক চিকিৎসা ছাড়া শামস উদ্দিনে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ভাতিজা #মুমসাদ কে নিয়ে Yellow zone (হলুদ জোন) যেখানে করোনা #পজেটিভ_নয় শুধু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর ওয়ার্ডে এডমিট দেয়া হয়। সেবা হিসেবে কর্তব্যরত নার্স তাদের আন্তরিক কিছু সেবা পাওয়া ছাড়া আর কিছু পাই নাই। যেহেতু কর্তব্যরত চিকিৎসক দের রেফার হিসেবে ভর্তি হলাম করোনা উপসর্গ নিয়ে সেহেতু COVID -19 টেস্ট করানো জরুরি মনে করি। কিন্তু অদৃশ্য নিয়মের বাধায় আটকে পড়লাম। যেইদিন ভর্তি সেইদিন পরীক্ষা করা হয় না, ল্যাব টেকনিশিয়ান নার্স কর্তব্যরত চিকিৎসক দের অনুরোধ করার পর ও যখন বুঝতে পারলাম সকাল ১১ টায় ভর্তি হওয়ার পরও বিকাল ৫ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে কোন স্যম্পুল নেয়া হলোনা। তখন শরণাপন্ন হতে হলো বিএমএ এর মহাসচিব স্বাস্থ্য অধিদফতর এর সাবেক অতিরিক্ত মহা পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী মহোদয়ের। তিনি ফোন দিতেই আবার আসতে হলো স্যাম্পল কালেকশন এর জন্য, স্যাম্পল কালেকশন হলো। COVID -19 টেস্টের প্রহর গণনা সহ ভাইয়ের শারিরীক সুস্থতার জন্য প্রতিনিয়ত আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার নিকট প্রার্থনা। পরের দিন শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলে আইসিইউতে চিকিৎসক নার্স সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন। এবং রাত ৩.২০ মিনিটে সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

#কিছু_বাস্তব_অভিজ্ঞতা

১)করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র শহীদ শামস উদ্দিন হাসপাতাল হলেও করোনা রোগীর কাছ থেকে সংক্রমিত হওয়ার সাধারণ মানুষের ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে। কে রোগী আর কে রোগীর নিকটাত্মীয় বুঝা মুশকিল। ভিতরে রোগীর এবং নিকটাত্মীয় দের আলাদা ইউনিফর্ম থাকলে এবং পর্যাপ্ত সিকিউরিটি থাকলে ভালো হতো। সিএনজি, সার্ভিস গাড়ী নিয়ে করোনা এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে প্রচুর রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আবার এই সব গাড়ীতে রোগী ছাড়া অনেকে অবাধে যাতায়াত করছেন। সেটা সর্বোচ্চ ঝুঁকির আওতায় পড়ে।

২) ইচ্ছে ছিলো গ্রামের বাড়ীতে জানাজা এবং দাফন কাফন করবো। কিন্তু এলাকার কিছু গুবট মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর ছড়িয়ে দিলো #আমাকে এবং আমার চাচাতো ভাই #কানন কে নাকি থানার পুলিশ ধরে নিয়ে কোয়ারান্টাইনে রাখছে এবং আরেক চাচাতো ভাই হবিগঞ্জ মিরপুর বেসিক ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক #সুমন_ভাই এবং #জিলু ভাইকে বাড়ির মধ্যে আইসোলেশনে রেখে তালাবদ্ধ করছে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা, ফেঞ্চুগঞ্জ থানা নাকি আমাদের বাড়ি লক ডাউন করছে। এই সব গুজব শুনে শেষ পর্যন্ত সিলেটেই মাটি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ইচ্ছে মতো লাশ দাফনের সুযোগ দিয়েছিলেন। আমরা আমাদের পরিবার কখনো চাইনি যে মৃত ব্যক্তি থেকে করোনা ছাড়াক এলাকায়। এলাকার মানুষ গুলো শান্তি থাকুক, নিরাপদ থাকুক।

#আফসোস
যদি ভাইয়ের করোনা পজেটিভ আসতো তবে খুব খুশি হইতাম, কারণ করোনায় ( মহামারী) মৃর্ত্যুবরন করলে রাসুল (স) এর হাদীসের ভাষ্যমতে শহীদের মর্যাদা। সেই শহীদের মর্যাদার জন্য আফসোস করছি। তারপরও আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার দরবারে কায়োমনে বাক্য প্রার্থনা ভাইকে জান্নাতের মেহমান এবং শহীদের মর্যাদা দিয়ে তার আরশের নিচে যেন স্থান দেন। #আমিন

৩) আজকে যারা করোনা নাম শুনলে ভয় পাচ্ছেন এবং করোনার পরিবার কে বাকা চোখে দেখে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, মনে রাখবেন কালকে আপনার এবং আপনার পরিবারের ও হতে পারে। এটা অসম্ভব কিছুনা আল্লাহ আপনাকে আমাকে সকলকে হেফাজত করুন, খুব শীঘ্রই মহামারী সম্ভাবনা রয়েছে।

৪) গোসল, জানাজার নামাজ, কবরে নামানো যথা নিয়ম তথা সাধারণ মূর্দাদের যেভাবে করানো হয় সেভাবেই আমরা করিয়েছি।

(#মোদ্দা_কথাঃ ব্যক্তি জীবনে বড় ভাই আমার এবং আমাদের পরিবারে জানামতে খুব পরিচ্ছন্ন ছিলেন, পান সিগারেটের নেশা, বাজে আড্ডা, উশৃঙখল চলা ফেরা, রাস্তায় বাজারে চা হোস্টেলে কখনো বসে আলাপ করতেন না। তারপরও যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন ক্ষমা করে দিবেন।)

বিঃদ্রঃ ২৮ মে /২০২০ ইং ভাইয়ের COVID -19 করোনার পরীক্ষা নেগেটিভ আসছে।

ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা সার্বক্ষণিক ফোনে মানসিক শক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আপনাদের উত্তম জাজা দান করুন।

লেখক : আকরাম চৌধুরী
সভাপতি,, সিএইচসিপি, সিলেট জেলা।

  • বি:দ্র: ছবিটি লেখক আকরাম চৌধুরীর এবং লেখাটি উনার ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া।