Wednesday, November 30, 2016

শুভ জন্মদিন




দিনটি ছিল ১৯৮৯ সালের ২৯শে নভেম্বর। স্বৈরাচারি জেনারেল 

এরশাদ সরকারের বিরুদ্বে আওয়ামিলিগ-বিএনপি-জামায়াত 

আহুত সর্বাত্নক হরতাল চলছিল দেশব্যাপী। এমনি এক 

সংকটপূর্ণ দিনে সিলেট উসমানি মেডিক্যাল হসপিটালে দুনিয়ার 

আলোতে আসে ফুটফুটে এক শিশু। সেই শিশুর কান্নায় তার 

জননী ভুলে যান তার সকল কষ্ট। জনক আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে 

কোলে তুলে নেন তার প্রথম সন্তানকে। নানা তার প্রথম নাতির 

দুনিয়ায় আগমনকে বরন করে নেন সারা গ্রামে মিষ্টি বিতরনের 

মাধ্যমে আর নানি তার আদরের নাতিকে ঠান্ডা থেকে রক্ষার
জন্য 

রাতভর কোলে নিয়ে বসে থাকেন।বড়মামা সুদুর সৌদি আরব 

থেকে ভাগ্নের নাম রাখেন ইয়াউমিন কাওসার।


এদিকে সারা রাত্রি জায়নামাযে নামায পড়ে রাতকাটান শিশুটির 

দাদি, দাদা কিছুক্ষন পরপর পায়চারি করতে থাকেন বাড়ীজুড়ে। 

অপেক্ষায় থাকেন কোন শুভ সংবাদের। অবশেষে ভোরবেলা 

চাচাত ভাইয়ের মাধ্যমে শুভ সংবাদ শুনেই নাম রাখেন অ্যামিল ।

সেই ৮৯ থেকে ২০১৬। একে একে চলে গেছে ২৭ টি বসন্ত। পেছনে 

রেখে গেছে এক বুক কষ্ট, স্বজনহারানো যন্ত্রনাকাতর দুঃস্বহ কিছু 

স্মৃতি। সেই স্মৃতিগুলোর মধ্যে.........




২০০০সাল। হজ্বের কার্যাদি সমাপ্ত করেই সেখান থেকে মহান 

মালিকের দরবারে হাজির হন আমার নানা, কষ্টের এক পাহাড় 

উপহার দিয়ে যান আমায়। নানার সাথে এক বিছানায় ঘুমনিয়ে 

মামাদের সাথে ঝগড়ার সমাপ্তি ঘটে, সমাপ্ত হয় নানার হাত ধরে 

মসজিদে যাওয়ার অধ্যায়।



২০০৩ সাল ।আমাকে কাদিয়ে হঠাৎ করেই পাড়ি জমান নাফেরার 

দেশে আমার প্রিয় দাদা। সেই সাথে রুদ্ধ হয়ে যায় দাদার কাছে গল্প 

সোনার সেই মুহুর্তগুলো। শত সহস্রবার শোনা 

আলিচান,লাড়িবেটির কিচ্ছা নামক গল্পগুলোর কিছুই আজ আর 

মনে নেই।



২০০৯ সালের রমজান মাস। পরিবার পরিজনকে কান্নার সাগরে 

ভাসিয়ে চলে যান প্রিয় দাদি। দুষ্টুমিতে যখন বিরক্ত হয়ে আম্মা 

কড়া শাসন করতেন আমায়,তখন দাদু এসে শাসাতেন আম্মাকে। 

দাদুরি জীবনাবসানের সাথে অবসান হয় আমার দুষ্টুমিরও।



২০১৪ সালের ১লা রমজান। দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে 

বেদনাদায়ক একটি দিন।এদিন রাত দুইটায় পরপারে পাড়ি জমান 

আমার বুড়ি,যিনি আমাকে একমাসের মধ্যে একবার না দেখলে 

পাগল হয়ে যেতেন। বিগত ৩/৪ বছর অসুস্থ ছিলেন,ছিলেন 

বিছানায় শায়িত। যখন নানুর বাসায় যেতাম তখন বাসার সবাই 

বলাবলি করত তোমার নানু তোমাকে সকালে অথবা রাত্রে 

ডেকেছেন। নানুর ওসিয়ত অনুযায়ী তার জানাযার নামায পড়াই। 

আমি সেদিন বুজেছি আপন জনকে চিরবিদায় দেয়ার কষ্ট। 

কেদেঁছি, অনেক কেদেঁছি সেদিন পরিবার পরিজনের আড়ালে।




আজ ভোরে ফেইসবুকে লগিন করে দেখতে পাই অনেক মেসেজ, 

একটি মেসেজ অপেন করে বুজতে পারি আজকে আমার জন্মদিন। 

আজ আমার জন্মদিন,যারা আমায় উইশ করেছেন তাদেরকে 

জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। সবাই দোয়া করবেন যতদিন এ ধরায় 

প্রান সঞ্চার হবে, ততদিন যেন দেশ,জাতি এবং ইসলামী 

আন্দোলনের কাজ করে যেতে পারি। দাদা যে উদ্দেশ্যে নাম 

রেখেছিলেন সেই উদ্দেশ্যে যেন নিজেকে একজন সৎ কর্মশীল 

মানুষ রুপে রুপান্তরিত করতে পারি। আমিন।।।।।।

No comments:

Post a Comment